বৃহস্পতিবার অপর্ণার বিয়ে, বাগদান সম্পন্ন

বিনোদন প্রতিবেদক,TechNews

30

করোনাকালে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব, একটা পর্যায়ে পারিবারিকভাবে আলাপ। তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন লাক্স তারকাখ্যাত অভিনয়শিল্পী অপর্ণা ঘোষ। বিয়ের আগে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে হয়ে গেল তাঁদের বাগদান। ১০ ডিসেম্বর আগ্রাবাদের একটি মন্দিরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তেমনটাই জানালেন অপর্ণা ঘোষ।

অপর্ণার বাগদান অনুষ্ঠানে ছিলেন পরিচালক শাফায়েত মনসুর ও অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তাঁরাই ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে অপর্ণার বাগদানের খবরটা প্রথম জানান।
জানা গেছে, অপর্ণার হবু বর নাম সত্রাজিৎ দত্ত।তিনি পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার। জাপানের এয়ারবাসে কর্মরত বলে জানালেন অপর্ণা। বিয়ে উপলক্ষে গতকাল তিনি জাপান থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।

TechNews কে অপর্ণা বলেন, ‘আমাদের এক বন্ধুর মাধ্যমে করোনাকালে ওর সঙ্গে পরিচয়। কথা বলতে বলতে একসময় ভালো লাগা তৈরি হয়। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। একটা পর্যায়ে জানতে পারি, ওর বাবা আর আমার বাবা ভালো বন্ধু। তারপর দুই পরিবার মিলে আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।’

অপর্ণা জানালেন, আগামী মে মাসে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তখন বিনোদন অঙ্গনের বন্ধু-সহকর্মীসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানালেন তিনি। ভালো লাগার মানুষ সত্রাজিৎ দত্তকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে যাচ্ছেন বলে আনন্দিত অপর্ণা।

সত্রাজিৎ বললেন, ‘আমাদের নতুন জীবন শুরু হতে যাচ্ছে। সবাই আমাদেরকে তাঁদের প্রার্থনায় রাখবেন।’

পারিবারিকভাবেই অপর্ণা ঘোষের বিয়ে হতে যাচ্ছে। এতে দুই পরিবারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানালেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা দেওয়ার আগে অপর্ণা সবার কাছে আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

অপর্ণার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কেটেছে চট্টগ্রামে। স্কুলের পাট চুকে গেলেই নাটকের দল নান্দিকারের সঙ্গে যুক্ত হন। বাবার হাতে গড়া দলের মহড়া প্রায়ই নিজেদের বাসায় হতো।মগ্ন হয়ে সেসব মহড়া দেখতেন। বাবার সঙ্গে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটের মঞ্চেও যাওয়া-আসা করতেন। ২০০৩ সালে অপর্ণা প্রথম মঞ্চ অভিনয়ে নাম লেখান। এস এম সোলায়মানের ‘কোর্ট মার্শাল’ ছিল অপর্ণা অভিনীত প্রথম নাটক। এ নাটকে অভিনয় করতে দলের সবার সঙ্গে যেতে হয় চাঁদপুর। সেখানকার শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে প্রথম নাটকের অভিনয় করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই প্রথম সেমিস্টারে নাম লিখিয়েছিলেন ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায়।

২০০৬ সালে প্রতিযোগিতা শেষে সেরা দশে জায়গা হয় তাঁর। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্র, টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। কাজ করেছেন চলচ্চিত্রেও। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘মৃত্তিকা মায়া’, ‘মেঘমল্লার’, ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘ভুবন মাঝি’, ‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্রগুলোয়।

২০১৩ সালে ‘মৃত্তিকা মায়া’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন অপর্ণা ঘোষ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.