24 ALL BANGLADESH NEWS

দলিল ছাড়াই ১১৬৬ প্লট বিক্রি

মোহাম্মদ মোস্তফা ঢাকা

130

প্রকল্পে মোট সাড়ে ৯২ একর জমির ৩০ একর রাখা হয়েছিল প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য। বাকি জমিতে অন্যান্য অবকাঠামো করার কথা বলা হয়েছিল। এখন সামান্য কিছু জমি খালি আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব অনিয়ম ও জমি বেদখলের ঘটনা ঘটেছে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে। গৃহায়ণের কর্মকর্তারা প্লট সাময়িক বরাদ্দের পর বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটির আর কোনো খোঁজখবর রাখেননি। বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা জমিতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। জোর পায়নি কিস্তি আদায়ও। ফলে বাস্তুহারাদের একটি পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প অপরিকল্পিত এলাকায় পরিণত হয়েছে।

অবশ্য নিজেদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হায়দার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দখল হচ্ছে, উচ্ছেদও হচ্ছে। এটা তো চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, অহস্তান্তরযোগ্য প্লট কেউ নিয়ম না মেনে হস্তান্তর করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের গত ২৩ ফেব্রুয়ারির একটি সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনে আবাসন প্রকল্পের এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি ‘২৬০০ বাস্তুহারা পরিবার পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে পরিচিত। বাউনিয়া মৌজার এই প্রকল্পে সেখানে তিন দশক আগে ২ হাজার ৫৬৮ জনকে ভাড়ার ভিত্তিতে ক্রয়ের জন্য প্লটের সাময়িক বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল তৎকালীন গৃহসংস্থান অধিদপ্তর, যা এখনকার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ।

নথিপত্র বলছে, ভাড়ায় প্লট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য শর্ত ছিল পরবর্তী ১০ বছরে প্লটের মূল্য বাবদ কিস্তিতে মোট সাড়ে ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরপর ৯৯ বছরের চুক্তিতে ইজারা দলিল করে দেবে সরকার।

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করেছেন মাত্র ২১২ জন। এখন পর্যন্ত ইজারা দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে ১৩৫ জনকে।

সরেজমিনে গিয়ে সম্প্রতি দেখা যায়, প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ও নিয়ম ভেঙে জমি কেনা ব্যক্তিরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করেছেন। ইতিমধ্যে সেখানে ১ হাজার ২৫৮টি ভবন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারের মতো অবকাঠামোর জন্য রাখা জমিতে বিপণিবিতান, গুদাম, গ্যারেজসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

শুধু এই প্রকল্প নয়, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় গৃহায়ণের অনেক জমি বেদখল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, বাস্তুহারাদের জন্য প্রকল্পটি একটি দৃষ্টান্ত হতে পারত। গৃহায়ণের গাফিলতিতে তা হয়নি। এ গাফিলতির তদন্ত হওয়া দরকার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.